ক্রোয়েশিয়ার পর এবার অবকাশ যাপনের অন্যতম তীর্থ ভূমি গ্রীসে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি !

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক থেকে, কবির আহমেদঃ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার খবরে বলা হয়েছে পর্যটকদের অবকাশ যাপনের তীর্থভূমি গ্রীসে করোনার নতুন সংক্রমণ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভূমধ্য সাগরের তীরবর্তী দেশ গ্রীসে জনসংখ্যার তুলনায় খুব কম করোনার সংক্রমণ হয়েছে। এখন পর্যন্ত এখানে প্রায় ৭,৫০০ জনের করোনার সংক্রমণ নিবন্ধিত হয়েছে এবং ২৩২ জন মারা গেছেন। তবে আগস্টের শুরু থেকে হঠাৎ করে এই অপরূপ নৈসর্গিক গ্রীসে করোনার নতুন সংক্রমণ বৃদ্ধির ফলে কিছুটা অস্বস্তিতে সরকার। কেননা গ্রীষ্মকালীন এই সময়টায় ইউরোপ সহ সারা বিশ্বের পর্যটকদের আনাগোনায় মুখোরিত হয়ে উঠে সমগ্র গ্রীস। দেশের অর্থনীতির এক বিরাট অংশ এই পর্যটন শিল্পের উপর নির্ভরশীল। এখন গড়ে প্রতিদিন ২০০ জনের উপরে মানুষ নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হচ্ছেন।                                                  

গতকাল মঙ্গলবার দেশটিতে ২৬৯ জনের নতুন সংক্রমণ সনাক্ত হয়েছে। এথেন্সের সরকার বর্তমান পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে তার করোনার ব্যবস্থা কঠোর করেছে। দেশের বেশিরভাগ জায়গায়, বার এবং নাইটক্লাবগুলি মধ্যরাতের পূর্বে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়াও, ৫০ জনের অধিক লোকের সমাবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। সুপারমার্কেট, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এবং অফিসিয়াল প্রতিষ্ঠানে পুনরায় মুখ ও নাকের বন্ধি অর্থাৎ মাস্ক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গ্রীক সরকার ছুটির প্রত্যাবর্তনকারীদের বৃদ্ধদের সংস্পর্শে আসার পূর্বে মাস্ক পরার আহ্বান জানিয়েছেন। এমনকি তাদের কোনও লক্ষণ না থাকলেও। পর্যটকদের বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন দ্বীপে ঘোরাঘুরি সময় বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।                                                    

গ্রীস সরকার সে দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন। এখন থেকে যে কেউ গ্রীসে ভ্রমণ করবেন তাকে ভ্রমণের আগেই নিবন্ধন করতে হবে। ফেডারেশন মন্ত্রকের ওয়েবসাইটে নিবন্ধকরণ সূচিতে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এই নিবন্ধন ভূমি ও সমুদ্রের মাধ্যমে প্রবেশের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৪৮-৭২ ঘন্টা এবং বিমানের মাধ্যমে প্রবেশের ২৪-৪৪ ঘন্টা আগে অবশ্যই করতে হবে। এই বাধ্যবাধকতার লঙ্ঘন করলে পর্যটকদের €৫০০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। এমনকী সীমান্ত থেকে ফিরিয়েও দেয়া হতে পারে।                          

এদিকে আজ অস্ট্রিয়ায় করোনায় নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ২৫৫ জন। যার মধ্যে রাজধানী ভিয়েনাতে নতুন সনাক্ত হয়েছেন ৮২ জন,তবে কেহ মৃত্যুবরণ করেন নি। আজ অস্ট্রিয়ার সংবাদ সংস্থা এপিএ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, গত জুলাই থেকে এই পর্যন্ত প্রায় ৪০,০০০ অস্ট্রিয়ান ক্রোয়েশিয়ায় অবকাশ যাপনের জন্য গিয়েছেন। এর মধ্যে মাত্র ১০,০০০ ফেরত এসেছেন। আজ অস্ট্রিয়ার Steiermark রাজ্য প্রশাসন বার্তা সংস্থাকে জানিয়েছেন যে,তারা ক্রোয়েশিয়া ফেরত ৫০০ জনকে ১৪ নিজ বাড়িতে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২৪,০৮৪ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৭২৯ জন। করোনা থেকে আরোগ্য লাভ করেছেন ২০,৯৫৮ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ২,৩৯৭ জন। এর মধ্যে ক্রিটিক্যাল অবস্থায় আছেন ২০ জন এবং হাসপাতালের করোনা ইউনিটে রয়েছেন ১২০ জন। তাছাড়া করোনা আক্রান্ত অধিকাংশ মানুষকেই নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

 

 7,139 total views,  2 views today