প্রানঘাতী করোনার প্রকোপে কাজ হারিয়ে গ্রামের ভ্রাম্যমান ফেরিওয়ালা

প্রানঘাতী করোনার প্রকোপে কাজ হারিয়ে জীবিকার তাগিদে এখন গ্রামের ভ্রাম্যমান ফেরিওয়ালা তারা

 সাব্বির আলম বাবু,লালমোহন থেকেঃ বিশ্বব্যাপী প্রানঘাতী করোনার ভয়াল তান্ডবের ছোবল বাংলাদেশকেও ছুঁয়েছে। তারই রেশ ধরে অর্থনৈতিক মন্দার দোহাই দিয়ে শহর-নগরে চাকুরী আর বিভিন্ন পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ কাজ হারনো বা ছাঁটাইয়ের শিকার। এ সকল মানুষ জীবিকার তাগিদে গ্রামে এসে ফেরিওলা হয়ে নিজের ও সংসারের সদস্যদের পেটের ভাত যোগার করছে। মাথায় ঝুড়ি নিয়ে এবাড়ী ওবাড়ী গিয়ে বিক্রি করছে নিত্য প্রয়োজনীয় প্লাস্টিকের গৃহ সামগ্রী। স্বল্প মূলধনে এবং অল্প দামে এসব পন্য গ্রামের গৃহিনীদের কাছে বেশ সমাদর পাচ্ছে। কম দামে ঘরে বসে কেনাকাটার এই সুযোগ কেউ হাত ছাড়া করতে চায় না।                                                                                                                                                                                                         

এই ভ্রাম্যমান ফেরিওলাদের দোকানে জগ, গ্লাস, বটি, বাটি, চাকু, খুন্তি, রুটি তৈরীর বেলুন, গামলা, ছিক্কা, প্লেট সহ রান্না ঘরের সব সামগ্রীই পাওয়া যায়। বর্তমানে নিয়মিতই এই ভ্রাম্যমান দোকানের ফেরিওলাদের দেখা যায়। এরা সাধারনত দল বেধে কাজ করে ও দলগত ভাবে এক জায়গায় বাসা ভাড়া করে থাকে। পাখির মতো যাযাবর জীবন তাদের। পাখি যেমন কাকডাকা ভোরে খাদ্যের সন্ধানে দূরের গ্রামে চলে যায়, তেমনি এরাও ভোর বেলা সূর্য উঠলেই ঝড়, বৃস্টি, বন্যা সহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাঝে ও মাথায় ঝুড়ি নিয়ে বের হয়ে যায় গ্রাম থেকে গ্রামে। আবার নিজের নীড়ে ফিরে আসে সারাদিনের পরিশ্রান্ত শরীর নিয়ে সেই সূর্য অস্তমিত যাওয়ার পর। গোধূলী লগ্নে প্রকৃতি তাদের মনে করিয়ে দেয় এবার বাড়ী ফেরার পালা।

কথা হয় এরকম একটি ফেরিওলা দলের নেতা মাঝ বয়সী আকবরের সাথে। তিনি জানান, স্বরুপকাঠীতে তার বাড়ী। এক সময় ঢাকায় গার্মেন্টসে ভাল বেতনে সুপারভাইজার পদে চাকুরী করতেন। পরিবার নিয়ে বেশ সুখেই বাস করছিলেন। সন্তানদের প্রতিস্ঠত নিয়ে ভবিষ্যতের অনেক রঙ্গিন স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু করোনার কারনে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার কারনে বিপুল সংখ্যক চাকুরী হারানো লোকের মধ্যে আমিও একজন। বাঁচার সংগ্রামে সামিল হয়ে অনেক চিন্তা করে চাকুরী থেকে জমানো অল্প মূলধনকে পূঁজি করে বেছে নিলেন এই ব্যবসা।                                                 

তাদের দলের জামাল,আলমগীর, কামাল, জাহাঙ্গীর, ইব্রাহিম, নকীব, আলামিন সহ সকলেরই জীবন কাহিনী প্রায় একই রকম। তারা ঢাকার চকবাজার থেকে পাইকারী কিনে আনেন প্লাস্টিকের মালামাল। গ্রামে গ্রামে প্লাস্টিকের মালামাল বিক্রি করে তাদের অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। ব্যবসাটি এখন তাদের পরিবারের বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন। তাদের সাথে আলাপকালে আরো জানা যায়, প্রতিমাসে তাদের জনপ্রতি ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা আয় হয়। এ টাকা থেকে নিজ খরচ রেখে বাকী টাকা বাড়ীতে পাঠিয়ে দেয় তারা। এভাবেই চলছে তাদের অনিশ্চয়তাময় ভ্রাম্যমান ফেরিওয়ালা জীবন। এদের সকলেরই দাবী সরকারী বা বেসরকারী ভাবে যেন দ্রুত তাদের একট স্থায়ী বিকল্প কর্মসংস্থান এর ব্যবস্থা করা হয়।

 6,559 total views,  1 views today