অস্ট্রিয়ায় করোনার সংক্রমণ অব্যাহত বৃদ্ধি সত্তেও সরকার বর্তমানে মাস্ক পড়ার ব্যপারে কঠোরতা চায় না !

 অন লাইন ডেস্ক থেকে,কবির আহমেদঃ অস্ট্রিয়ায় প্রতিদিন করোনার নতুন সংক্রমণ অব্যাহত আশঙ্কাজনক ভাবে বৃদ্ধি পেলেও সরকার মাস্কের বাধ্যবাধকতার ব্যপারে শিথিলতার পথ নিয়েছেন। বর্তমানে, অস্ট্রিয়ার বেশিরভাগ ফেডারেল রাজ্যে নাক এবং মুখ সুরক্ষা বন্ধনী কেবলমাত্র গণপরিবহন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের দোকান,সুপারমার্কেট, ব্যাংক এবং পোস্ট অফিস ছাড়া আর কোথাও পড়ার বাধ্যবাধকতা নেই।

এদিকে আগামী শুক্রবার ২৮ আগস্ট থেকে অস্ট্রিয়ার Oberösterreich রাজ্যে মাস্ক পড়ার বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের গভর্নর থমাস স্টেলজার আজ স্বাস্থ্য আধিকারিক ক্রিস্টিন হবারল্যান্ডার এবং করোনার বিশেষজ্ঞ বোর্ডের সদস্য তিলমান কনিগসুইজার সাথে এক বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে গণ মাধ্যমকে অবহিত করেন।

এই রাজ্যে জুলাইয়ের শুরুতে নতুন করে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। তিনি আরও জানান,আগামী সপ্তাহ থেকে করোনার ট্র্যাফিক লাইট সিস্টেমের মাধ্যমে পরিমাপ নিয়ন্ত্রণ এবং রাজ্যের বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পরীক্ষার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। অস্ট্রিয়ার জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্রের সীমান্তবর্তী এই রাজ্যে আজ নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৪৯ জন এবং বর্তমানে এই রাজ্যে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৪১৭ জন।

আজ অস্ট্রিয়ায় নতুন করে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন ৩২৭ জন,তবে কেহ মৃত্যুবরণ করেন নি। শুধুমাত্র রাজধানী ভিয়েনাতেই আজ সংক্রমিত হয়েছেন ১৮৭ জন এবং বর্তমানে এই ফেডারেল রাজধানী রাজ্যে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ১,৬০৭ জন।

অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত মোট করোনার আক্রান্তের সংখ্যা ২৬,০৩৩ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৭৩৩ জন। করোনার থেকে আরোগ্য লাভ করেছেন ২২,১৪৫ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৩,১৫৫ জন। এর মধ্যে ক্রিটিক্যাল অবস্থায় আছেন ২৩ জন এবং হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন ১৪১ জন। তবে বেশিরভাগ মানুষকেই নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

গত ৬ মাসের করোনার হিসাব-নিকাশ করলে দেখা যায় যে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তুলনায় অস্ট্রিয়া করোনা সংক্রমণ প্রতিহত এবং চিকিৎসায় একটি অন্যতম সফল দেশ। এর অন্যতম একটি কারন অস্ট্রিয়ার বাধ্যতামূলক রাস্ট্রীয় চিকিৎসাবীমা পদ্ধতি এবং দেশের জনগণের উপর সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। অন্য দিকে জবাবদিহিতামূলক সম্পূর্ণ গণতান্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত বলে শতভাগ শিক্ষিত জনগণও অনেক সচেতন এবং সরকারের সমস্ত আদেশ-নিষেধ যথাযথভাবে মেনে চলেন। ফলে সরকার ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অস্ট্রিয়ায় করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রিত।

 7,369 total views,  1 views today