অস্ট্রিয়ায় বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা – করোনার নতুন সংক্রমণের মধ্যে তরুণরা বেশী !

 অন লাইন ডেস্ক থেকে,কবির আহমেদঃ অস্ট্রিয়ায় করোনার দ্বিতীয় প্রাদুর্ভাবের এক জরিপ করতে গিয়ে ভিয়েনার টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির সিমুলেশন গবেষক ও গণিতবিদ নিকি পপার দেখতে পান যে, বর্তমানে চলমান মহামারীর দ্বিতীয় প্রাদুর্ভাবের সময় অপেক্ষাকৃত কম বয়সের মানুষের মধ্যে নতুন সংক্রমণের সংখ্যা বেশী। এর সম্ভাব্য কারণ হিসাবে বলা হয়েছে যে,করোনার শুরুতে তরুণরা বয়স্কদের চেয়ে বেশী সচেতন ছিলেন এবং সামাজিক দূরত্ব সহ সকল প্রকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেছেন। কিন্ত বর্তমানে তরুণদের মধ্যে সেই রকম সচেতনতা নেই বলেই তারা সংখ্যায় বেশী পরিমাণে সংক্রমিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন বর্তমানে নতুন করে করোনায় সংক্রমিতদের মধ্যে ১৫ থেকে ৩০ বৎসর বয়স্ক তরুণ- তরুণীরা সবচেয়ে বেশী। আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে পপার এবং তার দলের ইএমএসের ডাটা মূল্যায়নে দেখা যায় যে মোট আক্রান্তের প্রায় অর্ধেকের বেশী এই বয়সের মানুষের মধ্যেই পুরো মাস জুড়ে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

৬ মাস পূর্বে করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাবের প্রথমদিকে সাধারণত আক্রান্তের সিংহভাগ ছিলেন ৪৫ থেকে ৬০ বৎসর বয়স্ক মানুষেরা এবং পরবর্তীতে ৬০ থেকে ৭৫ বৎসর ও তার উপরের মানুষের মধ্যে বেশী পরিমাণে দেখা গেছে। তাই অস্ট্রিয়ায় করোনায় এই পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারীদের অধিকাংশেরই বয়স ৬০ থেকে ৯০ বৎসরের মধ্যে দেখা যায়।

গণিতবিদ ও সিমুলেশন বিশেষজ্ঞ নিকি পপার অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এবং হাসপাতালের চিকিৎসার কোন রকমের ত্রুটি দেখতে পান নি। পপার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পিত করোনার ট্র্যাফিক লাইটিং সিস্টেমকে একটি “গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ” হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।

রাজনীতিবিদরা কীভাবে ট্রাফিক লাইট কমিশনের সুপারিশগুলি মোকাবেলা করে তার উপরে অনেক কিছুই নির্ভর করবে। যেহেতু এখানে – জার্মানির পদ্ধতির বিপরীতে – পরীক্ষার নম্বর, ক্লাস্টারের পরিস্থিতি বা হাসপাতালের সংস্থান হিসাবে অনেক সূচককে বিবেচনা করা হয় এবং স্বচ্ছ করে তোলা হয়, নির্মাণটি অনেক ইতিবাচক বিষয়গুলির প্রতিশ্রুতি দেয় কারণ কেউ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার গতিশীলতার প্রতি “অনেক বেশি আলাদাভাবে” প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। পপার আশা করেন যে, ভবিষ্যতে এই ধরনের সিস্টেমগুলি করোনার সংক্রমণের বিস্তাররোধ ও প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সহায়তা করবে।

আজ অস্ট্রিয়ায় নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ২৭২ জন,তবে আজও করোনায় কেহ মৃত্যুবরণ করেন নি। আজ রাজধানী ভিয়েনাতেই সংক্রমিত হয়েছেন ১৬৭ জন। ফেডারেল রাজধানী ভিয়েনাতে বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ১,৮৫৮ জন। এই পর্যন্ত অস্ট্রিয়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২৭,৪৩৮ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৭৩৩ জন। করোনার থেকে আরোগ্য লাভ করেছেন ২৩,২২৬ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৩,৪৭৯ জন। এর মধ্যে ক্রিটিক্যাল অবস্থায় আছেন ৩১ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১৫৪ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাসায় আইসোলেশনে আছেন।

 7,437 total views,  1 views today