১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ হতে ১৬ডিসেম্বর এবং সৈয়দ নূরুজ্জামান দাদার একটি লাল রেডিও

সিন্ধু মনি চন্দ, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ  নিভৃত পল্লী কালাইনঞ্জুরা গ্রাম। ৩৬০ আউলিয়ার সফর সঙ্গী হযরত সৈয়দ ইলিয়াস(রহঃ) এর বংশধর মহান পূরুষ হযরত সৈয়দ শাহ আলমাছ  খন্দকার (রহঃ) ওরফে কাজী খন্দকারের গ্রাম। সম্মূখযোদ্ধে শহীদ হাবিবুর রহমান নানু ভাইয়ের গ্রাম। আরো কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধার গ্রাম।

তখনকার সময়ে কয় জনেরই বা রেডিও ট্রানজিস্টার ছিল। ২৫শে মার্চের কালোরাত্রির খবর, মুক্তিযোদ্ধের খবর শুনানোর একমাত্র ব্যক্তি সৈয়দ নূরুজ্জামান দাদা। গাদা গাদা চান্দা ব্যাটারি ষ্টক করে রাখতেন তিনি। বিবিসি, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র, আকাশবানী দেবদুলাল বন্দোপ্যাধায়ের ভাষ্য তিনি নিজেও শুনতেন মানুষকেও শুনাতেন।

সন্ধার পর উনার উঠোনটি লোকে লোকারন্য হয়ে যেত। উনার বাড়ীর পাশেই ছিল আমাদের বাড়ী। মাঝেমধ্যে বাবার সাথে যাওয়ার জন্য আমিও বায়না ধরতাম যেতামও।

আকাশবানী, খবর পড়ছি দেবদুলাল বন্দোপ্যাধায়, অথবা বিবিসি ষ্টেশন ধরছে না, চেরচের শব্দ হচ্ছে, ইস, খবর চলে যাচ্ছে, সৈয়দ নূরুজ্জামান দাদা সাদা এন্টিনা টানছেন,টিউনিং করছেন, সবাই চেয়ে আছেন উনার হাতের দিকে। মাছি নড়ছে কিন্তু আগ্রহী শ্রোতা কেউ নরছেন না।

দাদা খুব সিগারেট খেতেন, দাদী (সৈয়দ আখতারুজ্জামান মিজান চাচার আম্মা) মাঝে মধ্যে চা দিয়েও আপ্প্যায়ন করাতেন। মুক্তিযোদ্ধের মাঝামাঝি থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত অত্যন্ত সাবধনতার সাথে সতর্কতার সহিত খবর শুনানো হত।

১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের খবর শুনে আগ্রহ শ্রোতাদের কি বাঁধভাঙ্গা উচ্ছাস, জয় বাংলা, জয় বাংলা শ্লোগান। দীর্ঘ নয়টি মাস সৈয়দ নূরুজ্জামান দাদা খবর শুনিয়েছেন। উনি আমাদের মাঝে নেই। মহান সৃষ্টিকর্তা উনার জন্য যেন শ্রেষ্ঠ স্বর্গের দ্বার খোলে দেন। উনার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি।

 6,933 total views,  1 views today