করোনার সিগন্যাল কমলা হলেও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের জন্য এখনও হলুদ! – শিক্ষামন্ত্রী হাইঞ্জ ফ্যাসম্যান

 অন লাইন ডেস্ক থেকে,কবির আহমেদঃ আজ রাজধানী ভিয়েনায় এক সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রিয়ার শিক্ষামন্ত্রী হাইঞ্জ ফ্যাসম্যান বলেছেন ভিয়েনা সহ আরও ৬ টি অঞ্চল করোনা কমিশন কর্তৃক উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কমলা ঘোষিত হলেও আপাতত শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা হোম স্কুলিংয়ের দিকে আমরা যাচ্ছি না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন করোনা কমিশন অস্ট্রিয়ার শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে করোনা সংক্রমণরোধে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সে জন্য কমিশন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানকে এখনও হলুদ সিগন্যাল দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। আমাদের শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের সময় প্রতিটি শিক্ষার্থীকে হ্যান্ডস্যানিটাইজার দিয়ে জীবণুমুক্ত করে প্রবেশ করানো হয়। তাছাড়া করোনা মহামারীটির সংক্রমণ বিস্তারে আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন সংশ্লিষ্টতা এখনও খুঁজে পাইনি। তাই বর্তমানে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা ন্যায়সঙ্গত বলে আমি মনে করি।

মঙ্গলবার বিকালে আনুষ্ঠানিকভাবে করোনা কমিশন কর্তৃক ৭ টি অঞ্চলকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ‘কমলা’ জোন ঘোষণার পর অনেকের শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের খোলা রাখার ব্যাপার নিয়ে নানা বাক-বিতন্ডার মধ্যে তিনি আজ এই সংবাদ সম্মেলন ঢেকে বিষয়টি পরিষ্কার করেন। গতকাল বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর বেড়িয়েছিল যে সম্ভবত বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চতর শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে অন লাইন স্কুলিং আসছে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান,শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান খোলার পর সমগ্র অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত মোট ২০২ জন শিক্ষার্থী ও ২৮ জন শিক্ষক করোনা পজিটিভ সনাক্ত হয়েছেন। তবে এই সংক্রমণের জন্য কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান দায়ী ছিল না। তিনি অবশ্য স্বীকার করেছেন যে বিদ্যালয়ে সন্দেহভাজন করোনার সংক্রমণের দ্রুত পরীক্ষার ক্ষেত্রে কিছুটা”সমস্যা” রয়েছে। মন্ত্রী বলেন,এটি একটি “অভিজ্ঞতাগত সত্য: এটি অনেক দীর্ঘ সময় নেয়”। মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, সেপ্টেম্বরের শেষে স্কুলগুলিতে করোনার সন্দেহভাজনদের যাতে পরীক্ষা নিরীক্ষা আরও দ্রুত করা যায় তার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন।

আজ অস্ট্রিয়ায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৭৬৪ জন। তবে আজ করোনায় কেহ মৃত্যুবরণ করেননি। ভিয়েনায় আজ নতুন করে করোনার পজিটিভ সনাক্ত হয়েছেন ৪০০ জন মানুষ। বর্তমানে রাজধানীতে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৩,৪২৬ জন। সমগ্র দেশে এই পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৪,৩০৫ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৭৫৭ জন। করোনার থেকে আরোগ্য লাভ করেছেন ২৭,৩৫৪ জন। বর্তমানে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৬,১৯৫ জন। সংক্রমণ বৃদ্ধির ফলে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯৩ জনে এবং ক্রিটিক্যাল অবস্থায় আইসিইউতে আছেন ৪৯ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাসায় আইসোলেশনে আছেন।