করোনার কারনে অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর গ্রীস ও সাইপ্রাস সফর বাতিল

  অন লাইন ডেস্ক থেকে,কবির আহমেদঃ অস্ট্রিয়ায় করোনার নতুন সংক্রমণ আশঙ্কাজনক বৃদ্ধির ফলে আজ বৃহস্পতিবার থেকে অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার শ্যাচলেনবার্গের (ÖVP) ২ দিনের পূর্ব পরিকল্পিত গ্রীস এবং সাইপ্রাসে সফর বাতিল করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংক্ষিপ্ত নোটিশে সফল বাতিল করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের প্রেস নোটে বলা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর সঙ্গীদের মধ্যে একজন উচ্চ পদস্থ প্রতিনিধির করোনা পজিটিভ সনাক্ত হওয়ার পর পরই সফল বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংবাদ সংস্থা এপিএ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংবাদ সংস্থাকে বলেন,আক্রান্ত কর্মকর্তা বিষয়টি মন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে অবহিত করেছেন। মন্ত্রী আরও বলেন যেহেতু উক্ত কর্মকর্তার সাথে আমার গত ২ সপ্তাহের উপরে সরাসরি কোন সাক্ষাৎ হয় নি,তাই আমার ১৪ দিনের কোয়ারান্টাইনে থাকার প্রয়োজন নেই। পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে আক্রান্ত কর্মকর্তা শারীরিক অবস্থা ভালো এবং তিনি বর্তমানে হোম আইসোলেশনে আছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল গ্রীস ও তুরস্কের মধ্য পূর্ব ভূমধ্যসাগরে গ্যাস বিরোধ নিয়ে অস্ট্রিয়ার মধ্যস্থতা এবং লেসবোসের মরিয়া শরণার্থী শিবিরে আগুন লাগার বিষয় ও শরণার্থী বিষয়ক আলোচনা। এর জন্য গ্রীসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোস ডেন্ডিয়াস এবং সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোস ক্রিস্টোডুলাইডসের সাথে শ্যাচলেনবার্গের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তার সফরে শ্যাচলেনবার্গ তুরস্কের সাথে গ্রীসের বিরোধে দু’দেশের মধ্যে তিক্ত সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পরিকল্পনা ছিল। পূর্ব ভূমধ্য সাগরে সমৃদ্ধ বিশাল গ্যাসের মজুদ আবিষ্কারের পর থেকে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। গ্রীস এবং তুরস্ক ছাড়াও সাইপ্রাস সমুদ্রের এই অঞ্চল ও গ্যাস তাদের বলে দাবী করছে।

অবশ্য এই বিরোধে অস্ট্রিয়া স্পষ্টভাবে গ্রিসকে সমর্থন জানিয়েছে। ভৌগলিক ভাবে এই অঞ্চল গ্রীসের আন্তর্জাতিক সীমানার মধ্যে। কিন্ত তুরস্ক নিজের দাবী করে গ্যাস উত্তোলনের জন্য ড্রিলিং শুরু করে দিয়েছে যা আইনানুগ এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে। তুরস্ককে জরুরিভাবে ভূমধ্যসাগরে নিয়মিত ও অচল উস্কানিমূলকতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে,” শ্যাচলেনবার্গ বলেছেন, এখন বাতিল হওয়া এই সফরের বিষয়ে অবস্থানটির কথা উল্লেখ করে তিনি “একটি সাধারণ, পরিষ্কার” লাইন “ইউরোপীয় ইউনিয়নের। “আমরা তুরস্কের দৃষ্টিভঙ্গিতে একটি টার্নিং পয়েন্টে পৌঁছেছি,” পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এবং আবারও তুরস্কের সাথে ইইউ অনুদানের আলোচনার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির আহ্বান জানিয়েছে: “তবে এটি পরিষ্কার যে এটি ইউরোপের অংশীদার নয়”।

পরের সপ্তাহে ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে তুরস্কের বিরুদ্ধে আরও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা আলোচনা করবেন। ফ্রান্সের মতো অস্ট্রিয়ার মতো দেশগুলি গ্রীক অবস্থানকে সমর্থন করলেও জার্মান সরকার এই সংঘাতের মধ্যস্থতার চেষ্টা করে আসছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের সময় মাইগ্রেশন ইস্যুটি নিয়েও আলোচনা থাকত। গ্রীসের লেসবোস দ্বীপের বৃহত্তম গ্রীক শরণার্থী শিবির মরিয়ায় শ্যাচলেনবার্গের সফরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। গত সপ্তাহে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কয়েক হাজার মানুষ বাড়িঘর হারিয়ে এখন গৃহহীন। পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ। দশটি ইউরোপীয় দেশ তাই মোট ৮০০ জন অপ্রাপ্ত বয়স্ক নাবালিকাকে মেনে নিতে সম্মত হয়েছে – অস্ট্রিয়া তাদের মধ্যে নেই, তবে তিনি গ্রিসকে অস্ট্রিয়ান সরকারের একটি সহায়তা প্রদানের প্রস্তাব দিতেন।

গত সপ্তাহে অগ্নিকাণ্ডের পরপরই অস্ট্রিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ল নেহামার একটি বিশাল পরিবহন বিমানে ৫৫ টন ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে গ্রীস সফরে গিয়েছিলেন। নেহামার ব্যক্তিগতভাবে এথেন্স বিমানবন্দরে গ্রীসের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থিয়োডোরোস লিভানিয়াসের হাতে উপরোক্ত ত্রাণ সামগ্রী তুলে দিয়েছিলেন। অস্ট্রিয়া গ্রীস থেকে শরণার্থীদের গ্রহণ করবে কি না এই প্রশ্নটিও অস্ট্রিয়ার জোট সরকারের অভ্যন্তরে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল: যদিও গ্রিনরা পক্ষে থাকলেও, পিপলস পার্টি তা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

 7,955 total views,  1 views today