সুইডেন করোনায় ইউরোপের আদর্শ দেশ। কোন লকডাউন ছাড়াই বিধিনিষেধ মেনে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে !

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক থেকে,কবির আহমেদঃ ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনের নীল বোহর ইনস্টিটিউটের বায়োকম্প্লেসিটির সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কিম স্নেপেন বলেন, সম্ভবত ইউরোপের মধ্যে সুইডেন একমাত্র দেশ যেখান থেকে সম্ভবত করোনা ভাইরাসটি ধীরে ধীরে বিধায় নিচ্ছে।আর এটা সফল হয়েছে সুইডিশ জনগণের সম্মিলিত সুশৃঙ্খল কৌশল। এই রোগের প্রতিরোধে সে দেশের জনগণের সম্মিলিত সুশৃঙ্খল প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা সংক্রমণটির বিস্তার রোধ করতে সক্ষম হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা এএফপি জানায়,ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান অনুসারে, সুইডেন বর্তমানে ইউনিয়নের একমাত্র দেশ যেখানে গ্রীষ্মের শুরু থেকেই মাথাপিছু সাপ্তাহিক নতুন করোনার সংক্রমণের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। স্টকহোমের সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞরা এর সঠিক ব্যাখ্যা দিতে না পারলেও এটা যে জনগণের করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুশৃঙ্খল সম্মিলিত প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থার তা তারা বুঝতে পেরেছেন। জুনের মাঝামাঝি সময়ে, সুইডেন তখনও ইইউতে সংক্রমণের দিক থেকে নীচের দিকেই ছিল এবং সে সময় প্রতি ১,০০,০০০ জনপদে ৬৭,৪ জন নতুন সাপ্তাহিক কোভিড সংক্রমণ ছিল। একই সময়ে তখন অস্ট্রিয়ায় ১০০০,০০০ বাসিন্দায় প্রতি মাঝারি পরিমাণে ২.৪ টি নতুন সংক্রমণ রেকর্ড করা হয়েছিল। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সেই চিত্রটি এখন বিপরীত হয়ে গেছে। অস্ট্রিয়ায় বর্তমানে প্রতি ১,০০,০০০ জনপদে সংক্রমণ ৩৬.৪ এবং সুইডেনে ১৪.৩ তে নেমে এসেছে।

করোনার প্রথম তরঙ্গের শুরুতে ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ইউরোপের অধিকাংশ দেশ যখন কোনো না কোনো মাত্রার লকডাউন আরোপ করেছিল কিন্ত সুইডেন একমাত্র দেশ যারা সেই সময়ে অনেকটাই স্বাভাবিক জীবন যাপন করেছেন। করোনার প্রথম তরঙ্গের সময় ইউরোপের অধিকাংশ দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হলেও সুইডেনে ১৪ বৎসর বয়স পর্যন্ত শিশুদের স্কুলগুলি খোলা ছিল। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শুধুমাত্র অনলাইনে ক্লাশ হয়েছিল। সুইডেনের এই কৌশল অবলম্বন করার পেছনে দেশটির নাগরিকদের পূর্ণ সমর্থন ছিল। দেশটির বিজ্ঞানীরা এই কৌশলের প্রবর্তক এবং সরকার এটিকে সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু সুইডেনের সব ভাইরোলজিস্ট এখনও এই কৌশল নিয়ে পুরোপুরি আশ্বস্ত নন।

সংবাদ সংস্থার খবরে বলা হয়েছে সুইডেনের করোনার সময়ের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, জনসংখ্যার সিংহভাগই স্বেচ্ছায় সামাজিক দূরত্ব মেনে চলেছেন,যেটিকে মনে করা হচ্ছে সুইডেনের ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের প্রধান অনুষঙ্গ। জনগণ গণপরিবহন ব্যবহারের হার যথেষ্ট পরিমাণে কমিয়ে দিয়েছেন,জনসংখ্যার একটা বড় অংশ ঘরে থেকে কাজ করছেন(হোম অফিস) এবং দেশের অধিকাংশ জনগণ ইস্টারের ছুটিতে এবং গ্রীষ্মের ছুটিতে কোথাও ভ্রমণ করেননি। সরকার শুধুমাত্র ৫০ জনের বেশী মানুষের একসাথে জমায়েত নিষিদ্ধ করেছেন এবং বৃদ্ধনিবাসে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

নোভাস নামের একটি জরিপ পরিচালনা করা প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে যে, প্রতি ১০ জন সুইডিশের ৯ জনই দিনের অন্তত কিছু সময় অন্য ব্যক্তির চেয়ে অন্তত এক মিটার দূরত্ব বজায় রাখেন। সুইডেনে করোনার মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮৮,২৩৭ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৫,৮৬৫ জন।

এদিকে আজ অস্ট্রিয়া নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৮১৩ জন এবং ২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এর মধ্যে রাজধানী ভিয়েনাতে আজ সংক্রমিত হয়েছেন ৪৩২ জন। অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৭,৪৭৪ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৭৬৫ জন। করোনার থেকে আরোগ্য লাভ করেছেন ২৮,৯৬১ জন মানুষ। বর্তমানে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৭,৭৪৮ জন। এর মধ্যে ক্রিটিক্যাল অবস্থায় আইসিইউতে আছেন ৮৪ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৩৪৯ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাসায় আইসোলেশনে আছেন।

 8,475 total views,  1 views today