দক্ষিনাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে কচুরিপানা চাষ লাভজনক হতে পারে

 সাব্বির আলম বাবু,সমাচার প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশের  দক্ষিনাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকাসহ সর্বত্রই কচুরিপানা পার্শ্ববর্তী ডোবা বা জলাশয়ে ভেসে থাকতে দেখা যায়। এই সহজলভ্য জন্য জিনিসটাই প্রাকৃতিক জৈব সারগুলোর মধ্যে অন্যতম উৎকৃষ্টমানের সার। তবে চাষের পরিবেশ ও আবহাওয়া অনুকুল হলেও সুযোগ-সুবিধার অপ্রতুলতা, সঠিক পরিচর্যা বা রক্ষণাবেক্ষন এবং পরামর্শের অভাবে লাভজনক কচুরিপানা চাষের প্রসার তেমন হচ্ছে না।আনুপাতিকহারে এটি চাষে তেমন একটা খরচ বা পরিশ্রম করা লাগে না অথচ এর দ্বারা তৈরীকৃত কমপোস্ট সার নার্সারী, গাছপালা ইত্যাদি উদ্ভিদ বৃদ্ধি ও সবল করতে যথেস্ট অবদান রাখে। এইজন্য গরুর গোবরের পাশাপাশি কচুরিপানা বানিজ্যিক ভাবে উৎপাদন করা সম্ভব। বাজারে এর চাহিদাও অনেক। ইদানিং মাছ চাষের ক্ষেত্রেও কচুরিপানা ব্যবহার করতে দেখা যায়। এটি চাষ করতে মূল শ্রম হচ্ছে এর রক্ষণাবেক্ষণ। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, বছরের প্রায় বার মাসই কচুরিপানা চাষ করা যায়।

কিন্তু সুযোগ-সুবিধার অপ্রতুলতা, সঠিক পরিচর্যা ও পরামর্শের অভাবে এর চাষ তেমন ভাবে বিস্তার লাভ করতে পারেনি। উপকূলীয় এলাকার গ্রামাঞ্চলের যে সকল নিম্নাঞ্চল ও পতিত জমি আছে এবং যেগুলো বার মাস জলাবদ্ধ থাকে সেসব জমিতে কচুরিপানা চাষ ও ব্যবহার করা যায়। এটি শুধু কৃষি কাজের জৈব সার নয়, জ্বালানী, মহিষ ও গো-খাদ্য হিসাবেও এর চাহিদা রয়েছে। কৃষক মোঃ নবী জানান, সাধারনত শ্রাবন-ভাদ্র মাসে কচুরিপানার বংশ বৃদ্ধি পানির মধ্যেই হতে থাকে। সে সময় অন্য উন্মুক্ত জলাশয় যেমন-নদী-নালা-খাল-বিল-পুকুর ইত্যাদি থেকে ছোট ছোট কচুরিপানা এনে নির্দিস্ট আবদ্ধ জলাশয়ে বাঁশের সাথে রশি বা সুতলী দিয়ে বেঁধে দিতে হয়। যাতে এগুলো অন্যত্র ভেসে যেতে না পারে। তারপর কচুরিপানা গুলো দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। পুর্নাঙ্গ রুপে বড় হতে সময় লাগে দুই থেকে আড়াই মাস। এই সময়ের মধ্যেই পুরো জলাশয় কচুরিপানায় ভরে যায়। অল্প খরচ ও শ্রমে, বেশী লাভ ও পরিবেশ বান্ধব হওয়ায় এটি চাষে ও প্রয়োগে স্থানীয় কৃষকদের আরো বেশী উদ্বুদ্ধ করা দরকার। বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত কচুরিপানা যথেস্ট বড় হলে সেগুলো উঠিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে মাটি চাপা দিয়ে পচনে সহায়তা করা হয়। এতে সময় লাগে প্রায় এক মাস। পচনের পর তৈরী কমপোস্টই হলো কচুরিপানার উৎকৃস্ট মানের জৈব সার। আমাদের কৃষি জমিতে অধিক মূল্যে রাসায়নিক বা কেমিকেল সার প্রয়োগ কমিয়ে সে জায়গায় প্রাকৃতিক জৈব সার প্রয়োগের পরিমান বাড়িয়ে দিলে একদিকে যেমন খরচ অনেকাংশে কমে যাবে অপরদিকে মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পাবে। কৃষি ক্ষেতে যত্রতত্র নিয়মিত রাসায়নিক সার প্রয়োগে ক্রমেই মাটির উর্বরতা শক্তি কমে যায়। পরবর্তীতে সেই জমিতে অধিক ফসল উৎপাদন করা যায় না। পক্ষান্তরে একমাত্র জৈব সার নিয়মিত কৃষি জমিতে প্রয়োগেই ধীরে ধীরে মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পায়। যা অধিক হারে কৃষি পন্য উৎপাদনে রাখে। এ ব্যপারে স্থানীয় কৃষকদের সচেতনতা ও প্রশিক্ষনের পাশাপাশি সরকারী ও বেসরকারী কৃষি সংশ্লিস্ট সংস্থার এগিয়ে আসা দরকার বলে মনে করেন সুধী সমাজ।

 7,928 total views,  1 views today