অস্ট্রিয়ায় সরকার ও বিরোধীদল মিলে করোনার নতুন আইনের জন্য সংবিধানের সংশোধন ও আইন পাস করেছে !

অস্ট্রিয়ায় পরবর্তী লকডাউন সর্বোচ্চ ১০ দিন – অস্ট্রিয়ান জাতীয় সংসদ

 অন লাইন ডেস্ক থেকে,কবির আহমেদঃ বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর বিকালে অস্ট্রিয়ার জাতীয় সংসদে নতুন করোনার আইন ২০২০ ÖVP ও Green পার্টির কোয়ালিশন সরকার এবং অস্ট্রিয়ার প্রধান বিরোধীদল SPÖ এর সমর্থনে সংসদে পাস হয়েছে। করোনার এই নতুন আইনটি সরকারকে করোনায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে তার রাস্তা অনেকটা সহজ করে দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ,যদি করোনার সংক্রমণের ক্রমবর্ধমান অবনতি হয় তাহলে সরকারকে লক – ডাউনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে বলা হয়েছে অস্ট্রিয়ায় পরবর্তী লকডাউন সর্বোচ্চ ১০ দিনের জন্য দেয়া যেতে পারে। তবে পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষণ না থাকলে তা ধাপে ধাপে আরও কিছুদিন বাড়ানো যেতে পারে। করোনার সংক্রমণ রোধে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ এবং করোনার ট্র্যাফিক লাইট সিস্টেমটিকে বৈধতা দান করা হয়েছে।

তাছাড়াও এই আইনের ফলে পরবর্তী ক্ষেত্রে, মহামারী সংক্রান্ত পরিস্থিতি মূল্যায়নের মানদণ্ডগুলি নতুন সংক্রমণ, ক্লাস্টার বিশ্লেষণ (অর্থাত্ সংক্রমণের উৎস সম্পর্কে সম্যক ধারা), হাসপাতালগুলির সংকুলানের হার, সমস্ত পরীক্ষায় ইতিবাচক অনুপাত এবং পর্যটন যেমন আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্যগুলি এবং যাত্রী প্রবাহ সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। সরকারকে সম্ভাব্য লকডাউন ঘোষণার জন্য জাতীয় সংসদের মূল কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন হয় । কিন্ত এই আইনের ফলে সরকার পরিস্থিতির অবনতিতে দ্রুত প্রাথমিকভাবে ১০ দিনের লকডাউন ঘোষণা করতে পারবেন এবং অবস্থার অগ্রগতি না হলে প্রয়োজনে লক ডাউন আরও কিছুদিন বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।

কারফিউ জারি করলে কি কি বিষয় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। জাতীয় সংসদের প্রধান কমিটির সাথে সমন্বয় করে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী আদেশ দিতে পারেন যে “ব্যক্তিগত বাসস্থান ছেড়ে যাওয়া কেবলমাত্র নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে অনুমোদিত”। কারফিউ চলাকালে কারা ঘরের বাহিরে যেতে পারবেন,তাদের ব্যাপারেও আলোকপাত করা হয়েছে: যেমন,তাত্ক্ষণিক বিপদ এড়ানো, সহায়তার প্রয়োজন লোকদের দেখাশোনা করা, দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর সুপারমার্কেটের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। “শারীরিক এবং মানসিক শিথিলকরণ” এর জন্য বাইরে থাকা। নিজের ভাইবোন বা সেরা বন্ধুদের সাথে দেখা করা যারা একাকী বসবাস করেন বা তাদের দেখার কেহ নাই এবং গণপরিবহন সার্ভিসে কর্মরত লোকজন ইত্যাদি।

কারফিউ চলাকালীন সময়ে কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি খোলা রেখে আইন অমান্য করলে জরিমানা হতে পারে €1,450 ইউরো থেকে €30,000 হাজার ইউরো পর্যন্ত। এই নতুন আইনে বিভিন্ন রাজ্য কর্তৃপক্ষকে কিছু অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে ফলে পরিস্থিতি বিশ্লেষণের সাপেক্ষে তারা নিজেরাই অনেক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। আইন দ্বারা তাদের এই বিশেষ ক্ষমতা এখন নির্ধারিত হয়েছে যে তারা ফেডারেল সরকার সরবরাহিত আইনগুলির চেয়ে আরও কঠোর আইন দ্রুত প্রবর্তন করতে পারবেন।

নতুন আইনে আরও পরিকল্পনা করা হয়েছে যে, ভবিষ্যতে প্র্যাকটিস চিকিৎসক(হাউজ ডাক্তার)এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা করোনার পরীক্ষাও করতে পারবেন। এটির ব্যয়ভার স্বাস্থ্য বীমাদাতাদের দ্বারা প্রদান করা হবে, যা ঘুরেফিরে সরকারের সংকট ব্যবস্থাপনা তহবিল থেকে ফেডারেল সরকারের কাছ থেকেই অর্থ প্রদান করা হবে।

অবশ্য অস্ট্রিয়ার প্রধান বিরোধীদল SPÖ কোয়ালিশন সরকারের এই নতুন আইন সমর্থন ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা করলে অন্য বামপন্থী বিরোধীদল FPÖ কোয়ালিশন সরকারের এই করোনার নতুন আইনের শুধুমাত্র বিরোধীতা করেই ক্ষান্ত হন নাই তারা ভোটেও অংশগ্রহণ করেন নাই।

আজ অস্ট্রিয়ায় নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৬৮১ জন এবং ৬ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। রাজধানী ভিয়েনায় আজ সংক্রমিত হয়েছেন ৩০৫ জন এবং এখানে বর্তমানে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৪,৩৯৪ জন। এই পর্যন্ত অস্ট্রিয়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৯,৯৮৪ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৭৭৭ জন। করোনার থেকে আরোগ্য লাভ করেছেন ৩০,৯৪৯ জন মানুষ। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৮,২৫৮ জন। এর মধ্যে ক্রিটিক্যাল অবস্থায় আজ আইসিইউতে আছেন ৭৭ জন এবং হাসপাতালের করোনার বিশেষ ইউনিটে ভর্তি আছেন ৪১৩ জন মানুষ। অবশিষ্ট পজিটিভ সনাক্তরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।

 8,282 total views,  1 views today