রবিবার ১১ অক্টোবর ভিয়েনার সিটি কর্পোরেশন ও রাজ্য নির্বাচন সম্পর্কে অনলাইন পোর্টাল বিশ্লেষণ !

আজ অস্ট্রিয়ায় করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ১,২০৯ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৮ জন

 অন লাইন ডেস্ক থেকে,কবির আহমেদঃ অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার সিটি কাউন্সিলর ও রাজ্য নির্বাচনে অস্ট্রিয়ার সবচেয়ে বেশী সময় ক্ষমতায় থাকা দল SPÖ বরাবরের মত এবারও বেশ সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভিয়েনা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল।

রবিবার SPÖ কতটা শক্তিশালী হবে? ভিয়েনার অন লাইন পোর্টালগুলির এক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে যে, SPÖ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও ২০১৫ সালের নির্বাচনের ৩৯% ধরে রাখতে পারবে বলে সবাই ধারণা করছেন। অনেকে আবার হিসাব কষে বলছেন এই বৎসর মেয়র মিখাইল লুডভিগের নেতৃত্বাধীন SPÖ ২০১৫ সালের চেয়ে আরও কিছুটা ভালো ফলাফল করে শতকরা ৪২% ভোট পেতে পারে।

আবার অনেকে বলছেন সাবেক FPÖ প্রধান Strache এর রাজনৈতিক স্ক্যান্ডালের কারনে ভিয়েনার অনেক ভোটার যদি মেয়র মিখাইল লুডভিগের দিকে তাকিয়ে SPÖ এর দিকে ফিরে আসে তাহলে রবিবার SPÖ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও করতে পারে !

আবার অনেকেই বলছেন FPÖ থেকে যারা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে তারা অর্থমন্ত্রী গেরনট ব্লুমেলের ÖVP এর দিকে ফিরে আসতে পারে। যদি তাই হয় তাহলে ÖVP অতি সহজেই দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন ভিয়েনার মেয়রকে সম্ভবত অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন ÖVP এর সাথে কোয়ালিশন করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

২০১৯ সালের নির্বাচনে ভিয়েনায় ÖVP পেয়েছিল মাত্র ৯% ভোট। এই বৎসর তারা কি দ্বিগুণ অর্থাৎ ১৮% এ উঠতে পারবে। অর্থমন্ত্রী গেরনট ব্লুমেল সরাসরি ঘোষণা দিয়েছেন যে,তিনি নির্বাচিত হলে অস্ট্রিয়ার অর্থমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দিয়ে তিনি ভিয়েনার রাজ্য অর্থ কাউন্সিলর ও ডেপুটি মেয়র হওয়ার আকাঙ্খা প্রকাশ করেছেন। আসলে অস্ট্রিয়ার রাস্ট্রীয় ক্ষমতাসীন দল ÖVP আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভিয়েনার প্রশাসনে তাদের কর্তৃত্ব ফিরিয়ে আনতে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন ÖVP ভিয়েনার রাজ্য নির্বাচনে এবার ২০% এর উপরে ভোট পাবে। ২০১৯ সালে ÖVP প্রধান চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জ তার কোয়ালিশন পার্টনার হাইঞ্জ-ক্রিশ্চান স্ট্রাখের স্ক্যান্ডালের পর সরকার ভেঙ্গে দিয়ে প্রধান বিচারপতির নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। যার ফলস্বরূপ নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচিত হয়ে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরত এসেছেন। করোনার প্রথম প্রাদুর্ভাবের সময় তার দ্রুত পদক্ষেপ অস্ট্রিয়া সহ বহির্বিশ্বে বেশ প্রশংসিত হয়েছে।

অন্যদিকে গত নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থান অধিকারী(31%) কঠোর রক্ষণশীল FPÖ এইবারের নির্বাচনে জনপ্রিয়তা হারিয়ে ১০% এর নীচে নেমে আসার হুমকিতে রয়েছে। তাদের সাবেক দল প্রধান হাইঞ্জ-ক্রিশ্চান স্ট্রাখের রাজনৈতিক স্ক্যান্ডালের জন্য দল থেকে বিভক্ত হওয়ার পরে তারা তাদের নির্বাচনের লক্ষ্যমাত্রা ১৫ % নির্ধারণ করেছিল কিন্ত ২০১৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা মাত্র ১২% ভোট পেয়েছিল।

অন্যদিকে ভিয়েনায় প্রশাসনে SPÖ এর কোয়ালিশন পার্টনার Green পার্টি কি তাদের কাঙ্খিত ১৫ % ধরে রাখতে পারবে? সাবেক Green পার্টি প্রধান প্রফেসর আলেকজান্ডার ভ্যান ডের বেলেন রাস্ট্রপতি হওয়ার পর Green পার্টির নেতৃত্বে কিছুটা দুর্বলতা নেমে আসে। তবে ২০১৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেশ সফলতা পেয়েছিল বলেই বর্তমানে ÖVP এর সাথে প্রথমবারের মত দেশের কোয়ালিশন সরকারে আসতে পেরেছে। যদি তারা তাদের এই সফলতা ধরে রাখতে পারে তাহলে SPÖ এর সাথে মিলে ভিয়েনায় পুনরায় কোয়ালিশন সরকার গঠন করতে পারবে।

এদিকে গত বৎসরের সাধারণ নির্বাচনে নতুন দল NEOS গঠন করে দলনেত্রী স্পষ্টভাষীণী Beate Meinl-Reisinger সবাইকে অবাক করে দিয়ে শতকরা ৬% ভোট পেয়ে জাতীয় সংসদে নিজের স্থান পাকাপোক্ত করে নিয়েছেন। বর্তমানে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা NEOS এর গঠনমূলক রাজনৈতিক চর্চার জন্য জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে বলে জানিয়েছেন। আজ অস্ট্রিয়ার বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে রাজনৈতিক বিশ্লেষণে বলছেন যে,যদি SPÖ ও Green পার্টি মিলে ভিয়েনার প্রশাসন গঠন করতে না পারে তাহলে NEOS কে নিয়ে ৩ দলীয় কোয়ালিশন সরকার গঠিত হওয়ার সম্ভাবনাও আছে ভিয়েনায়।

অন্যদিকে সাবেক FPÖ প্রধান হাইঞ্জ-ক্রিশ্চান স্ট্রাখের রাশিয়ার ব্যবসায়ী মহিলার সাথে দুর্নীতির পরিকল্পনার স্ক্যান্ডালের পর রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে এখন পুনরায় নতুন দলের ঘোষণা দিয়ে আবার ভিয়েনার রাজনীতিতে ফিরে আসাকে তেমন একটা ভালো চোখে দেখছেন না রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

এদিকে আজ অস্ট্রিয়া নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ১,২০৯ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৮ জন। আজ রাজধানী ভিয়েনাতেই সংক্রমিত হয়েছেন ৬১৩ জন। অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫২,০৫৭ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৮৩৮ জন। করোনার থেকে আরোগ্য লাভ করেছেন ৪১,২৮৯ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৯,৯৩০ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে আছেন ১০৭ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৫০৬ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।

 9,029 total views,  1 views today