ভিয়েনায় এক নেপালি মহিলা তার ৩ সন্তানকে গলা টিপে হত্যা করেছে !

হত্যার পর পুলিশে ফোন করে স্বীকারোক্তি !

 অন লাইন ডেস্ক থেকে, কবির আহমেদঃ অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার ২২ নাম্বার ডিস্ট্রিক্টে ৩১ বৎসর বয়স্ক এক নেপালি মহিলা শনিবার ১৭ অক্টোবর ভোর ৫ টা ২০ মিনিটে পুলিশের জরুরী নাম্বারে ফোন করে জানান যে,তিনি তার ৩ সন্তান যথাক্রমে ৮ মাসের ১ ছেলে এবং ৩ ও ৯ বৎসরের দুই মেয়েকে গলা টিপে হত্যা করেছেন।

জানা গেছে মহিলার স্বামীর সাথে দাম্পত্য কলহ চলছিল। এই দম্পতি প্রায় ১৭ বৎসর যাবৎ ভিয়েনায় বসবাস করছেন। কয়েক সপ্তাহ পূর্বে তাদের মধ্যে প্রচন্ড ঝগড়া হয়েছিল এবং মহিলা তার স্বামীকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছিলেন। মহিলার ৪৪ বৎসর বয়স্ক নেপালি স্বামী ভিয়েনার ৯ নাম্বার ডিস্ট্রিক্টের একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করেন। পরে পুলিশ ভিয়েনার ৯ নাম্বার ডিস্ট্রিক্টের Alserground এ এসে নেপালিকে তার সন্তানদের হত্যাকান্ডের কথা জানান। পরে পুলিশ এই লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের আসল উদ্দেশ্য উদঘাটনের জন্য তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। স্বামী পুলিশকে জানান তৃতীয় সন্তান জন্মের পর থেকেই তার স্ত্রীর মানসিক অবস্থার বেশ পরিবর্তন ঘটেছে। খিটখিটে মেজাজ,কারণে অকারণে সন্তানদের মারধর এবং স্বামীর সাথে ঝগড়া ইত্যাদি। আরও জানা গেছে নেপালি মহিলা ভিয়েনার University of Natural Resources and Life Science জার্মানি ভাষায় Universität für Bodenkultur Wien এ পড়াশোনা শেষ করেছেন। নেপালি মহিলা নেপালের Butwal শহরের বাসিন্দা এবং Student ভিসায় অস্ট্রিয়ায় এসেছিলেন।

ভিয়েনা পুলিশের একজন মুখপাত্র সংবাদ সংস্থা এপিএ কে জানান, মহিলা নিজেই পুলিশে ফোন করে বলেছে যে আমি আমার ৩ সন্তানকে হত্যা করেছি এবং ঘটনাস্থলে পেট্রোল পুলিশ, ক্রিমিনাল পুলিশ এবং পুলিশের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা এই হত্যাকান্ডে অন্য আর কাহারও সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাননি। মুখপাত্র আরও জানান,এই মুহূর্তে, তিন সন্তানের মা (আট মাস, তিন এবং নয় বছর) জিজ্ঞাসাবাদ করছেন অপরাধ তদন্তকারী দল। মহিলা অনেক বৎসর ধরে ভিয়েনায় থাকলেও জিজ্ঞাসাবাদে ভাষাগত সমস্যা হওয়ায় পুলিশ একজন নেপালি দোভাষীর সাহায্য নিয়েছেন।

তদন্তকারী দলের সাথে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞও ছিলেন। নিহত ৩ শিশুর মরদেহ মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছে পোস্ট মর্টেমের জন্য। মহিলা বর্তমানে ক্রিমিনাল পুলিশের হেফাজতে আছেন। এখানে উল্লেখ্য যে,অস্ট্রিয়ায় কোন মৃত্যুদণ্ডের বিধান নাই,এই দেশে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

 10,482 total views,  1 views today