আজ ২৬ অক্টোবর অস্ট্রিয়ার জাতীয় দিবস

নিউজ ডেস্কঃ করোনার জন্য এই বৎসর ভিয়েনার সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন ও সেনাবাহিনীর কুচকাওয়াজ বাতিল করা হয়েছে। আজ সরকারী ছুটির দিন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (১৯৩৯-১৯৪৫) সময় অস্ট্রিয়া জার্মানির পক্ষ নিয়েছিল। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ৪ মিত্র বাহিনী সোভিয়েত ইউনিয়ন,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গ্রেটব্রিটেন এবং ফ্রান্স অস্ট্রিয়া দখল করে নেয়। মিত্র বাহিনী সমগ্র অস্ট্রিয়াকে চার ভাগে ভাগ করে নেন। রাজধানী ভিয়েনাকেও চার ভাগে ভাগ করে মিত্র বাহিনীর দখলে রেখেছিলেন।

চার মিত্র দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত “মিত্র নিয়ন্ত্রণ কাউন্সিল” দীর্ঘ ১০ বৎসর যাবৎ অস্ট্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ তাদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন। যদিও অস্ট্রিয়ান সংসদ গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ছিল,তবে আইন সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণ বা সরকারের আইনানুগ ব্যবস্থা মিত্র নিয়ন্ত্রণ কাউন্সিলের হাতে ন্যস্ত ছিল। কোন সিদ্ধান্ত নিতে হলে মিত্র নিয়ন্ত্রণ কাউন্সিলের সম্মতির প্রয়োজন হত। তারা যদি কোনও ভেটো বা অনুমোদন না দিতেন তখন সেটি বাতিল হয়ে যেতো।

মিত্র বাহিনীর দখলের অবসান ঘটাতে এবং অস্ট্রিয়াকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতির চুক্তির বিষয়ে ব্যাপক আলাপ-আলোচনার পর ভিয়েনায় সাবেক রাজার বেলভেদার প্রাসাদে ১৯৫৫ সালের ১৫ মে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং ২৭ জুলাই ১৯৫৫ সাল থেকে চুক্তিটি কার্যকর হয়েছিল। তারপর মিত্র বাহিনী অস্ট্রিয়া থাকলেও রাস্ট্রীয় ক্ষমতা অস্ট্রিয়ানদের
কাছেই ছিল। মিত্র বাহিনী ১০ বৎসর যাবৎ তাদের সেনাবাহিনীকে অস্ট্রিয়া থেকে সরিয়ে নেয়। শেষ রাশিয়ান সৈন্য ১৯৬৫ সালে অস্ট্রিয়া ত্যাগ করলে তখন দেশটি সম্পূর্ণ বিদেশী সৈন্য মুক্ত হয়।
১৯৫৫ সালের ২৬ অক্টোবর অস্ট্রিয়ান সংসদ স্থায়ী নিরপেক্ষতা সংক্রান্ত সাংবিধানিক আইন পাস করেন। ১৯৯৬ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (EU) প্রবেশের পূর্বে অস্ট্রিয়া বিশ্বে একটি নিরপেক্ষ দেশ হিসাবে বেশ সমৃদ্ধি লাভ করেছিল। এই নিরপেক্ষতার ফলেই অস্ট্রিয়ায় জাতিসংঘের আণবিক শক্তি কমিশনের সদর দফতর, তেল উত্তোলনকারী দেশ সমূহের সংস্থা OPEC এর সদর দফতর সহ আরও অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার অফিস অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা রয়েছে।


চুক্তি স্বাক্ষরের ১০ বৎসর পর ১৯৬৫ সালের ২৬ অক্টোবর থেকে অস্ট্রিয়ায় নিয়মিতভাবে এই দিনটিকে দেশের জাতীয় দিবস বা স্বাধীনতা দিবস হিসাবে পালিত হয়ে আসছে। এই দিনে অস্ট্রিয়ার রাষ্ট্রপতি ভবনের সামনে Heldenplatz (Heroes’ Square) এ অস্ট্রিয়ান সেনাবাহিনীর সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন সহ চৌকস সেনাদের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসিডেন্ট, চ্যান্সেলর সহ মন্ত্রিপরিষদ,বিরোধীদলের নেতৃত্ববৃন্দ সহ হাজার হাজার সাধারণ মানুষ উপস্থিত থাকেন। তবে ভিয়েনায় করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য এই বৎসর জাতীয় দিবসের এই কুচকাওয়াজ বাতিল করা হয়েছে।

 10,008 total views,  1 views today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *