তুরস্কের ভূমিকম্প ও অলৌকিক কুরআন সংরক্ষণ

বরিশাল থেকে, জিল্লুর রহমানঃ ১৯৯৯ সালের ১৭ আগষ্ট তুরস্কে ঘটেছিল এক প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প। সারা বিশ্বের মানুষকে সেই ভূমিকম্পের ঘটনা ভাবিয়ে তুলেছিল। কেন ঘটেছিল? জেনে নেই ঘটে যাওয়ার ইতিহাস। জনৈক সামরিক অফিসার কর্তৃক পবিত্র কুরআন অবমাননার জন্য তুরস্কের উপর নাযিল হয়েছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে ভূমিকম্প নামক এক মহা গজব। এই ভূমিকম্পে সরকারি হিসাবে সতের হাজার আর বেসরকারিভাবে পঞ্চাশ হাজারেরও অধিক লোক নিহত হয়েছিল, উদ্বাস্তু হয়েছিল প্রায় ৫ লক্ষ মানুষ | মৃত্যু ও আহতের হার বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল রাত তিনটায় এই ভয়ংকর ভূমিকম্প ঘটে এবং সেদিন রাতে লোকজন ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তায় ও মাঠে বসেছিল। মোবাইল ফোন কাজ করছিল না, সারা শহরে বিদ্যুত চলে গিয়েছিল এবং মানুষ রাতের বেলা প্রায় অর্ধ উলঙ্গ হয়ে বাইরে বসেছিল। অনেকেরই হয়তো মনে আছে সেই বিভীষিকার কথা- স্থির চিত্রে, চলচ্চিত্রে। সে ভূমিকম্প বিশ্ববাসীকে হতবিহ্বল করেছিল তার প্রচন্ডতায়, নৃশংসতায়। কিন্তু কারণটা ছিল অনেকের কাছেই অজানা কিংবা রহস্যময়।

এই ঘটনাটি আরবের বেশকটি পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছিল। আর ইন্টারনেটের মাধ্যমে সমগ্র দুনিয়া জুড়ে সংবাদ ছড়িয়ে পড়েছিল। এখনও ইন্টারনেটে সার্চ দিলে সহজেই পাওয়া যায়। এই সংবাদটি জর্দানের ‘শাইহান’, কাতারের ‘আল ওয়াতান’, বাহরাইনের ‘অননুখান’ পত্রিকা সমূহে প্রকাশিত হয়েছিল। এই গজবে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছিল অনেক শহর, জনপদ। ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রাপ্ত এই ভয়াবহ সংবাদের সারমর্ম হচ্ছে- ‘সাগরের পারে তুরস্কের এক বিখ্যাত নৌঘাটি। এই ভূমিকম্পটি পরিচিত ‘ইজমিত ভূমিকম্প’ হিসেবে। মারমারা সাগরের তীরে তুরস্কের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের নাম ইজমিত।

অবসরপ্রাপ্ত কিছু সংখ্যক তুর্কী জেনারেলের সংবর্ধনা উপলক্ষ্যে সেখানে আয়োজন করা হয়েছে এক জাঁকালো অনুষ্ঠান। উন্মত্ত রজনী উৎসব নামে সেই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে যোগদান করেছেন ইসরাইলী, আমেরিকান, স্বাগতিক তুর্কী দেশের জেনারেলবৃন্দ। যাদের অনেকে নাস্তিক বা ইসলাম বিদ্বেষী। প্রত্যেক দেশের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করছিলেন ত্রিশজনের অধিক করে। আমদানী করা হয়েছিল সুন্দরী নর্তকীদের। যথাসময়ে শুরু হল মদ পান আর নৃত্য। জেনারেলদের চারদিকে ঘিরে নাচছে নর্তকীরা। চলছে মনের সমারোহ। রজনীর উন্মত্ততা তখন তুঙ্গে। সুরায় নেশায় উম্মত্ত।

আয়োজক খোদাদ্রোহী জেনারেলের মাথায় এলো ইবলিসী চিন্তা। চিৎকার দিয়ে ডাকলো এক ক্যাপ্টেনকে। আনতে বলল কুরআন শরীফ। প্রমান করতে চায় কুরআনের বিশুদ্ধতা ও এর রক্ষাকারীর ক্ষমতা। ধর্মপ্রাণ ক্যাপ্টেন শিউরে উঠলেন জেনারেলের শয়তানী কথা শুনে। জেনারেলের হুকুম মত কুরআন শরীফ হাজির করা হলো। জেনারেল নির্দেশ দিলো ক্যাপ্টেনকে। কুরআন পাঠ কর ১৪ পারার সুরা হিজরের ৯নং আয়াত। ভয়ে পাঠ করলেন ক্যাপ্টেন অর্থাৎ “আমিই (আল্লাহ) কুরআন নাযিল করেছি এবং নিশ্চয় আমি নিজেই এর সংরক।” জেনারেল বলল ব্যাখ্যা কর এই আয়াতের। সংকিত ক্যাপ্টেন বললেন, আমি জানি না এর ব্যাখ্যা। ব্যাখ্যা কর এই আয়াতের সংকিত ক্যাপ্টেন বললেন, আমি জানি না এর ব্যাখ্যা। ব্যাঙ্গাত্মক হাসি ফুটে উঠল জেনারেলের মুখে।

সে নিজে বলতে লাগল “আল্লাহ বলছে নাকি সে নাযিল করেছে কিতাব আর সে নিজেই নাকি হেফাজত করবে এই কুরআনকে।” আর সাথে সাথে জেনারেল টুকরো টুকরো করে ফেললো পবিত্র কুরআন, ছড়িয়ে দিল মদের আসরে, নৃত্যরত নগ্ন নর্তকীদের পায়ের তলায়। আর দম্ভ ভরে উচ্চারণ করলো, “কোথায় সে কুরআন নাযিলকারী আর কোথায় সে এর হেফাজতকারী?” এই অমানবিক শয়তানী কার্যকলাপ দেখে ভয়ে আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার চিৎকার দিতে দিতে হল রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন ক্যাপ্টেন। ত্যাগ করলেন ঘাঁটি।

আর ঠিক তখনই সমুদ্র বক্ষ থেকে বিদীর্ণ হয়ে বেরিয়ে এল হেফাজতকারীর পক্ষ থেকে প্রচন্ড এক অগ্নিস্তম্ভ খোদায়ী গজব। কমলা রঙের প্রবল আলোর বিচ্ছুরণে ধাঁধিয়ে গেল চোখ। সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ এক মহাশব্দ, মহা আর্তনাদ। সব কিছু নিমিষের মধ্যে শেষ হয়ে গেল। নৌঘাঁটি বিলীন হয়ে
গেল মাটির গর্ভে। কারো কোন নাম নিশানা বাকী রইল না। প্রচন্ড ধ্বংসস্তুপে প্রমাণিত হলো যালেমদের রেহাই নেই, অহংকারীদের ধ্বংস অনিবার্য। আর ইহাই মহাসত্য।

আর সত্য আল্লাহ ও তাঁর নাযিলকৃত পবিত্র কুরআন মাজীদ। চিরন্তন সত্য আল্লাহর ওয়াদা। আবার নতুন করে দেখিয়ে দিলেন বিশ্বের নাফরমানদের। কুরআন মাজীদে আল্লাহ তায়ালা বলেন অর্থাৎ “আপনি বলুন, তিনিই শক্তিমান যে তোমাদের উপর কোন শাস্তি উপর দিক থেকে অথবা তোমাদের পদতল থেকে প্রেরণ করবেন অথবা তোমাদেরকে দলে উপদলে বিভক্ত করে সবাইকে মুখোমুখি করে দিবেন এবং একে অন্যের উপর আক্রমণের স্বাদ আস্বাদন করাবেন। দেখ, আমি কেমন ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নিদর্শনাবলী বর্ণনা করি- যাতে তারা বুঝে নেয়।” (সূরাঃ আনআম, আয়াত ৬৫)।

যালিম খোদাদ্রোহী ব্যক্তি ও গোষ্ঠির এই ঘটনা থেকে যেমন শিক্ষা নেয়ার সুযোগ রয়েছে তেমনি মুমিন মুসলমানের ঈমান- ইয়াকীনকে আরও শুদ্ধতর মজবুত করারও রয়েছে তাগিদ। দয়াময় মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা হে আল্লাহ! আমাদেরকে তুমি তোমার মহাগজব থেকে হেফাজত কর। তোমার এই বিশাল শামিয়ানার নিচে তোমার আশ্রয় চাই। তুমি অসীম, মহান। তোমার রহমতের কোন সীমানা নেই।

তথ্যসূত্রঃ সংগৃহীত ও সংকলিত।

 

 4,057 total views,  1 views today